একটি প্রকল্পের অর্থায়নের বিভিন্ন উপায় বর্ণনা করুন
কোনো প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রয়োজন হয়। এই অর্থ প্রকল্প উদ্যোক্তা, শেয়ারহোল্ডার, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে।
প্রকল্পে অর্থায়নের বিভিন্ন উপায়
সাধারণভাবে প্রকল্প অর্থায়নের দুটি প্রধান উৎস হলো—ইক্যুইটি অর্থায়ন (Equity Financing) এবং ঋণভিত্তিক অর্থায়ন (Debt Financing)। নিম্নে প্রকল্পে অর্থায়নের উপায়গুলো আলোচনা করা হলোঃ
১. ইক্যুইটি অর্থায়ন (Equity Financing)
ইক্যুইটি অর্থায়ন বলতে ব্যবসার মালিক বা উদ্যোক্তাদের নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহকে বোঝায়। এ ধরনের অর্থ ফেরত দিতে হয় না এবং এর বিপরীতে কোনো নির্দিষ্ট সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকে না।
একটি প্রতিষ্ঠানের ইক্যুইটি অর্থায়নের প্রধান উৎসগুলো হলো—
ক. উদ্যোক্তাদের নিজস্ব তহবিল
প্রকল্পের উদ্যোক্তা বা স্পন্সররা নিজেদের অর্থ বিনিয়োগ করেন। এটি তাদের মালিকানার অংশ এবং প্রকল্পের প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন। উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ যত বেশি হয়, ঋণদাতাদের আস্থাও তত বৃদ্ধি পায়।
খ. সাধারণ শেয়ার ইস্যু
কোম্পানি সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির প্রকৃত মালিক। তারা লভ্যাংশ ও শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে লাভবান হন। তবে ব্যবসায় ক্ষতি হলে তার ঝুঁকিও বহন করেন। তাদের দায়বদ্ধতা বিনিয়োগকৃত অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
গ. অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু
অগ্রাধিকার শেয়ার ইক্যুইটি ও ঋণ—উভয়ের কিছু বৈশিষ্ট্য বহন করে। এজন্য একে হাইব্রিড অর্থায়নও বলা হয়। এ ধরনের শেয়ারধারীরা নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের আগে লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত পাওয়ার অধিকার ভোগ করেন।
২. ঋণভিত্তিক অর্থায়ন (Debt Financing)
ঋণভিত্তিক অর্থায়ন বলতে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য ঋণদাতার কাছ থেকে অর্থ ধার করে প্রকল্পের অর্থায়নকে বোঝায়। এই অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুদসহ পরিশোধ করতে হয়।
প্রতিষ্ঠানের ঋণভিত্তিক অর্থায়নের প্রধান উৎসগুলো হলো—
ক. মেয়াদি ঋণ
মেয়াদি ঋণ নতুন প্রকল্প অর্থায়নের অন্যতম প্রধান উৎস। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাধারণত পর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে এ ঋণ প্রদান করে। এই ঋণ সাধারণত ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যে কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। ভূমি, ভবন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য স্থায়ী সম্পদ ক্রয়ের জন্য এ ঋণ ব্যবহার করা হয়।
খ. ঋণপত্র
দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের জন্য কোম্পানি বন্ড বা ডিবেঞ্চার ইস্যু করতে পারে। এগুলোর মাধ্যমে কোম্পানি নির্দিষ্ট সময় পর মূল অর্থ এবং সুদ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঋণপত্র কোম্পানির সম্পদের বিপরীতে নিরাপত্তা দ্বারা সমর্থিত থাকে।
গ. বিলম্বিত পরিশোধ বা সরবরাহকারী ঋণ (Deferred Payment / Suppliers’ Credit)
অনেক সময় যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ক্রেতাকে এককালীন মূল্য পরিশোধের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময় ধরে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেয়। একে বিলম্বিত পরিশোধ বা সরবরাহকারী ঋণ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে সুদের হার ও পরিশোধের সময়সীমা সরবরাহকারীর শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারী ব্যাংক গ্যারান্টিও দাবি করে।
উপসংহার
একটি প্রকল্পের অর্থায়ন সাধারণত ইক্যুইটি অর্থায়ন ও ঋণভিত্তিক অর্থায়নের সমন্বয়ে গঠিত হয়। ইক্যুইটি প্রকল্পকে স্থায়ী মূলধন সরবরাহ করে এবং আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করে। অন্যদিকে ঋণভিত্তিক অর্থায়ন অতিরিক্ত মূলধনের চাহিদা পূরণ করলেও তা নির্ধারিত সময়ে সুদসহ পরিশোধ করতে হয়। তাই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ইক্যুইটি ও ঋণের মধ্যে সুষম ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
